প্রেয়সী তুমি,তবু আনন্দে বাঁচ -মোঃ বদিউজ্জামান

ভাঙ্গনে এত কেন ভয় তোমার?
সব সম্পর্ক ভাঙ্গে, চলে কত কিছু
থামে সব কিছু, সময় হলে থামার
সত্য আলোকে প্রেমকে দেখে নাও বার বার।
সৈকতে ঢেউ এসে ফিরে যায়
আবার ফিরে এসে চুমো খায়
আবার ফিরে যায় নিজস্বতায়
জীবনের সম্পর্ক ভিন্ন কিছু নয়।
স্বর্গ থেকে আসে যাহা ফিরে স্বর্গ পানে
জীবন মিলে জীবনের আহ্বানে
সময়ের ঘুর্ণিটানে ছুটে যায় বন্ধন
জীবন, সে তো হাসি উল্লাস নীরব ক্রন্দন।
ভাঙ্গনের সিঁড়ি বেয়ে সৃষ্টি উত্থান
ভাঙ্গনে ভীত নয় সৃষ্টিশীল প্রাণ
জেগে রও প্রিয় তুমি সৃষ্টিমগ্নতায়
জীবন নাচুক,তুর্য নাচনে,সৃষ্টি বিমুগ্ধতায়।

শূণ্যতার বেদনা -মোঃ বদিউজ্জামান

যাবেই তো তুমি, সময়ের মতো নীরবতায়
প্রেমকে চিরতরে কে পেয়েছে? কবে? কোথায়?
ক্ষয়ে যাওয়া হৃদয়ে কত দাগ থেকে যায়
প্রেম, কর্পুরের মতো ধোয়া হয়ে নীলিমায় মিলায়।
কাদাখোঁচা পাখিরা এই হৃদয়ে বাসা বেঁধেছিল
কত ছানাপোনা নিয়ে কত কত কলরব যে তারা তুলেছিল!
তারপর একদিন হৃদয়মাটি ছেড়ে কোথায় যে উড়াল দিল!
আর্তহৃদয় নীলবেদনায় কত যুগ তবু যে পাড়ি দিল।
গাছের কোটরের মতো হৃদয় কোটরে
দুটি নাম না জানা পাখি বাসা বেঁধেছিল
তাদের প্রেমের গীতি শুনে শুনে
আমার দুঃখ রজনীর অবসান হত।
কোন এক রাঙা ভোরে সেই যে তারা
নীল আকাশে ডানা মেলে অজানা কোন দিগন্তে
নতুন কোনো সম্ভাবনার পথ বেছে নিল
বিক্ষত হৃদয় তাও মেনে নিল।
হৃদয় শূণ্য হতে হতে এখন মরা চর
সব খুইয়ে সে শিখেছে কেউ নয় আপনপর
সব হারায় এই ভূবনে
শূণ্যতার বেদনায় পড়ে থাকে বিশ্বচরাচর।

নিঃসঙ্গ চিল -মোঃ বদিউজ্জামান

নিঃসঙ্গ এক চিল ডানা মেলে
একা একা উড়ছে আকাশের বুকে
দিক থেকে দিকে, দিগন্ত থেকে দিগন্তে
ঠাঁই খুঁজে ফিরছে সে পৃথিবীর প্রান্তে।
শূণ্য থেকে চেয়ে চেয়ে দেখে সে
ফাঁদ পাতা পৃথিবীর বাঁকে বাঁকে
ফাঁদ পাতা পৃথিবীর মাঠে মাঠে
পাহাড়, নদী, উপত্যকার ঘাটে ঘাটে।
পৃথিবী জুড়েই শুধু ফাঁদের খেলা
মানুষের তরে মানুষ ফাঁদ পাতে
বিলাসে, আনন্দে প্রতিশোধের নিষ্ঠুর হিংস্রতায়
চিলের জন্য শান্তি! এই পৃথিবীতে সে কোথায়?
বন-বনানী, সাগর, নদী, মাঠঘাট ঘেঁটে
চিল ছুটে চলে সীমানা ছাড়িয়ে অসীমের বুকে
শিকারীর হিংস্র চোয়াল তার তীক্ষ্ণ চোখে ভাসে
এখানে জলাঙ্গীর পাড়ে বসতি গড়ার আশা
নিরাশার তীর হয়ে তার বুকে ফিরে আসে।
ক্লান্তি, নিরাশার বেদনাভারে উড়ে উড়ে সে
চেনা আকাশ পেরিয়ে নামে অচেনা আকাশে
চোখে তার চেনা আকাশের ঠিকানা ভাসে
মানুষ কোথায় যাবে যখন ঘণ অন্ধকার
ক্রমেই তার চেনা পৃথিবীকে গ্রাসে?
যখন মানুষ, মানুষের ভবিষ্যত নাশে।

বৃষ্টি তুমি থেমে যাও -মোঃ বদিউজ্জামান

খুব মন খারাপ আমার
কখনো ঝির ঝির কখনো ইলশে গুঁড়ি
কখনো খুব প্রবল বৃষ্টি ঝরছে
কোনো লক্ষণ নেই থামার।
মাঝে মাঝে আমার মনে হয়
এত বেশী বৃষ্টি ভালো নয়
সম্বলহীনের কষ্ট বাড়ে
জল জমে জমে জলাবদ্ধতাও যে হয়।
বেশী বেশী বৃষ্টি দেখে অন্য ভাবনাও হয়
বৃষ্টি মুছে দেয় কী স্মৃতির কোষগুলো?
তা না হলে ভুলে যাই কেন
কে আমি?কে আমরা?
মনে প্রশ্ন জাগে,প্রবল বৃষ্টির ধারা
আমাদের সব রক্তত্যাগই কী মুছে দেয়?
অস্পষ্ট করে দেয় কী আমাদের স্বপ্ন?
স্বার্থপরতায় আমরা হয়ে পড়ি কী নিদারুন দিশেহারা!
বৃষ্টি তুমি থেমে যাও
আমাদের স্মৃতির কোষগুলো রেখে যাও
আমাদের ভাবতে সময় দাও
স্মৃতিভ্রষ্টের বিভ্রম হতে মুক্তি দাও।