আলোর প্রার্থনা – মোঃ বদিউজ্জামান

হে প্রভু,তুমি মাফ করে দাও
সভ্যতার নগ্নরুপ কত আর মেনে নেওয়া যায়?
মনুষ্যত্বের ক্ষয়ে যাওয়া কত আর দেখা যায়?
একটু আড়াল দাও প্রভু, একটু আড়াল কর।
ইতরপনা দেখে দেখে ক্লান্ত দুচোখ
গুবরে পোকার মতো এই বেঁচে থাকা
কীটপতঙ্গের কোলাহলে ত্যক্ত বিষন্ন চারিধার
এই বিবর্ণ জীবনে বিবর্তনের আলো দাও প্রভু।
উজ্জ্বল উষার লোহিত আলো দাও প্রভু।

বিবর্ণ সভ্যতা -মো. বদিউজ্জামান

আগুন বাতাসে ভারী শ্যামল পৃথিবী
প্রলয় তান্ডবে পুড়ে সভ্যতা হয় ছারখার
শান্তির সুবাতাস নয়, নয় স্বস্তির নিশ্বাস
পৃথিবী জুড়ে বাড়ে শুধু হাহাকার ।
তন্ত্রমন্ত্রের নামে চলে
স্বার্থ আর সংঘাতের উদ্ভট খেলা
সভ্যতার পুরনো মানচিত্র হয় বিবর্ণ
নতুন ক্ষতে বাড়ে পৃথিবীর রুগ্নতা ।
তবু মানুষ স্বপ্ন দেখে সোনালী দিনের
রক্ত আর ঘামে বোনে স্বপ্নের বীজ
সহস্র রক্ত ঋণে ধুইয়ে দেয় পুরনো পাপ
আশাবাদী মানুষের জয়যাত্রা তবু বহমান থাক।

চুম্বন -মো. বদিউজ্জামান

ওসব ছলাকলা রাখো তুমি
তার চেয়ে স্বার্থকে যাও চুমি
দশটা লাইক খুঁজে বেড়াও
কয়টা ডলারের সম্ভাবনা বাড়াও।
পুঁজিবাদী ভাবনায় প্রেম হলুদ
জন্ডিসের মতো হলুদ
পুঁজিবাদী সমাজে যে প্রেম মাঙ্গে
সে বলদ, নিরেট বলদ, হলুদ বলদ।

দহনের সুখ -মো. বদিউজ্জামান

কী আর পোড়াবে তুমি? র্কীর্তি আর নাম?
ও সব আমার নেই কিছু আর
তোমার জন্য হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে সব গেছে, সব
কী আর পোড়াবে তুমি, প্রিয়তমা আমার?
সময়ের করুন যাতনায় কত যে দগ্ধ আমি!
তা জান না তুমি,জানেন অন্তর্যামী
সময় যেতে যেতে কত কিছু যে কেড়ে নেয়
এ শূন্য হৃদয় তা জানে, জান না শুধু তুমি।
তবু পোড়াতে যদি চাও, পোড়াও
যে সোনা পুড়ে পুড়ে খাঁটি
তাকেও পুড়িয়ে সুখ পেতে চাও?
হায় রে মানব হৃদয়! এও বুঝ না
কিসে সুখ আর কিসে সুখ নয়।
সময়ের নদী ধরে চলতে চলতে
পৌঁছে যাব আমি কাঙ্খিত বন্দরে
তুমি আর কত দূর যাবে?
ক্লেদ, ঘৃণা আর জিঘাংসা নিয়ে অন্তরে?