ডুবে যাই অতলে -মো. বদিউজ্জামান

কত গহীনে যে ডুবে যাই প্রতিক্ষণ
বুঝে না তা বোধহীন মন
সত্য এই যে কেউ বোঝে না কারও ব্যথা
বিকৃতি দেখে দেখে শুধু অসার হয় প্রশান্ত মন।
কার যে স্বপ্ন ভাঙ্গে নিত্য হাহাকারে
তবু কেউ সাড়া না দেয় বিধ্বংসী চিৎকারে।
তোমার আমার শত্রু শত্রু খেলা
তোমার স্বপ্ন নিভে যাবে আমার ফুৎকারে।
কোন কোন সময় ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া ভালো
কখনও কখনও চোখের দৃষ্টি ঘোলা হওয়া ভালো
তার চেয়েও ভালো, চোখ থাকতেও না দেখা
ডুব সাঁতারে নিজেকে লুকানো আরও ভালো।
তুমি যদি অরণ্যে হারাতে পার
আমি কেন অতল জলে নয়?
আমি বুঝতে পারি পাল্টে গেছে
আমাদের চির পরিচিত সময়।
তুমি ভেসেই থাক, থাক প্রবাহমান
দীর্ঘ হও ছায়ার সমান
তারপর একদিন চোখে মেলে দেখবে
মরে গেছে ছায়া, তুমি নও আয়ুষ্মান।

প্রভু আলো দাও -মোঃ বদিউজ্জামান

প্রভু, আলো দাও, চক্ষু মেলে দেখতে দাও
হৃদয়ে উপলব্ধি দাও, আলোয় হৃদয় পূর্ণ করে দাও
তাপিত মনের অশুভ বাসনা নাশ করে দাও
প্রভু আলো দাও, হৃদয়ের আগল খুলে দাও।
ভাঙ্গা তরী, ভাঙ্গা হাল
প্রবল ঝড়ে টালমাটাল
অকূল পাথার, আঁধার চারিধার
প্রভু সহায় হও, তুমি কর উদ্ধার।

ও কিছু নয়, প্রেয়সী -মোঃ বদিউজ্জামান

ও কিছু নয়, প্রেয়সী
একটু নির্ভার হওয়ার চেষ্টা,
অনেক পিপাসা বুকে
তবু এমন জল নেই,
মেটাতে পারে তেষ্টা।
ও কিছু নয় প্রেয়সী
একটু ঝুলে থাকার বাসনা
ডাকি এত করে, এত করে ডাকি
তবু দূরে রও, তবু কাছে আস না।
ও কিছু নয়, প্রেয়সী
বুকের জ্বলন, দহন অগ্নিসম
বলেছি অনেক আপন তুমি
তুমি আমার প্রিয়তম।

সামান্য আশা -মোঃ বদিউজ্জামান

খুব সামান্য প্রত্যাশা আমার
অতি সামান্য আশা
অসংখ্য তারাভরা আকাশের নীচে
একটি শীতল রাত আনন্দস্রোতে ভাসা।
একটি বুনো পাহাড়, বুনোফুলে ভরা
উড়ে ফেরা অগণিত প্রজাপতির ডেরা
বয়ে চলা ঝর্ণার কুলকুল ধ্বনি
সেখানে ঋষির মতো তন্ময় এই আমি
আমার হৃদয় মন আনন্দে আত্নহারা।
আমার সামান্য প্রত্যাশা
অতি সামান্য আশা
কোজাগরি পূর্ণিমায়
তোমার সাথে জ্যোৎস্নালোকে ভাসা।
সামান্য আশা আমার
ঝিঁঝিঁডাকা বন প্রান্তরে
নীরব হেঁটে চলা
আত্মমগ্ন এই আমি,
নিজের সাথে নিজের কথা বলা।