চিনবে না তুমি -মো. বদিউজ্জামান

চিনতে চাও কেন তুমি আমাকে?
চেনায় জানায় কি লাভ হবে আর?
কে কাকে চেনে? চারিদিকে করুণ আঁধার
পরিচয় ভোলার সময়ে, পরিচয় মনে থাকে কার?
তার চেয়ে ফিরে যাও তুমি
পূর্বপ্রেমের কথা যাও ভুলে
হারায় যে প্রেম অবহেলে
হাজার রোদনে তা কি আর মেলে?

অবিচ্ছেদ্য এই আমি -মো. বদিউজ্জামান

একটি জীবন নয় শুধু একক জীবন
একটি নদী নয় শুধু একক নদী
একটি পাহাড় নয় শুধু একক পাহাড়
একটি গাছ নয় শুধু নিঃসঙ্গ এক গাছ।
জীবনে হাজার জীবন থাকে
হয়তো লক্ষ জীবন থাকে
নদীতেও থাকে লক্ষ জীবনের সমাহার
পাহাড় তো কত না জীবনের আবাস
একটি গাছ শ্যামল পৃথিবীর প্রতীক।
আমাকে তুমি বিচ্ছিন্ন করতে পার
ভাবতে পার নিঃসঙ্গ একাকী একজন
কিন্তু সে তো শুধুই তোমার বিরস ভাবনা
প্রত্যেক প্রাণ, প্রত্যেক অপ্রাণও
এই পৃথিবীর অবিচ্ছেদ্য অংশ
আমিও নই তার ব্যতিক্রম।

কিছু কথা বলার ছিল -মোঃ বদিউজ্জামান

হৃদয়ে জমানো কিছু কথা নিয়ে অপেক্ষায় আছি
দিন-রাত কেটে যায়, অপেক্ষা ফুরায় না
স্থবির সময় কাটে না, মুহূর্ত যেন অনন্তকাল
অপেক্ষা ও সময়ের কাছে এ জীবন মুহূর্তকাল।
হৃদয়ের কথামালা ফুটতে থাকে বারুদের মতো
আমি পাথর চাপা দিয়ে রাখি
ভূঅভ্যন্তরে সাজানো শিলাস্তরের মতো
যেন চড়ুই পাখির মতো ফুরুৎ করে পাখা না মেলে।
বহুবার বলতে চেয়েছি হৃদয়ের কথামালা
তুমি করেছো অজস্র অবহেলা
কথার মতো সামান্য কিছুকেও
অজানা শঙ্কায় ভেবেছো বারুদের জ্বালা।
কথার ফেরি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে
ঘর্মক্লান্ত এই আমি বুঝেছি
কথাও হৃদয়ে রক্তনদীর বান ডাকায়
কথাতেও ভালোবাসার ভরানদী শুকায়।
কথার ফেরি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে
পরিশ্রান্ত এই আমি বুঝেছি
সব সময় কথা বলার সময় নয়
সময়ে কথারও অর্থ বদলে যায়।

রক্ত ঝরে অবিরাম -মো. বদিউজ্জামান

স্বপ্ন কেড়ে নিতে নিতে
আমাকে করেছো স্বপ্নহীন
বিবর্ণতার মোড়কে ঢেকেছো
যে জীবন আমার ছিল রঙিন।
আশার সহস্র ঢেউ
আশাহীন নিস্তব্ধতায় গুমরে মরে
আলোর সাম্পান ছিনিয়ে নিয়ে
অন্ধকার করেছে আমার আলোর জগৎ।
তবু ক্ষান্ত হও না তুমি , হে নিষ্ঠুর!
তবু তুমি সাড়া না দাও, থাক নিরুত্তর
ধারালো করাত হানো আমার বুকে
নির্লিপ্ত নয়নে দেখো হৃদয়ের রক্তস্রোত ছোটে।