গোধুলি সময়। আকাশের রঙ বিচিত্র। লাল, সাদা, হলুদ, নীল আরও অনেক অনেক রঙ। রঙের চেয়েও বেশী সুন্দর রঙের বিন্যাস। ঠিক যেন চিত্রপটে আঁকা। কে যে এমন করে আঁকে? চাম বাঁদুরেরা উড়ছে। কি যে হয় তাদের এই সাঁঝের বেলা! কোথা হতে যে তারা আসে? কই দিনের বেলা তো তাদের দেখি না। সাঁঝের বেলাই কেন তাদের আসতে হবে? কি সম্পর্ক তাদের সাঁঝের বেলার সাথে? কত দিন মনে এ প্রশ্ন জেগেছে। কিন্তু কে দেবে এর উত্তর? মনের প্রশ্ন মনের গহীনে রেখে দিয়েছি। প্রকৃতিতে একটু একটু করে রাতের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কি যে এক ধরণের পোকা আওয়াজ তুলেছে। আওয়াজ তো নয় যেন ছন্দময় গান। এই হয়তো তালে তালে আওয়াজ তুলে আবার থেমে যায়, আবার শুরু করে। কি করে যে তাদের মধ্যে সংযোগ হয়, যোগাযোগ হয় বুঝি না! ক্ষুদ্র মনে এর কোন জবাব খুঁজে পাই না। পাখির দল কেমন ঝাঁক বেধে উড়ে যাচ্ছে তাদের ঠিকানায়। কোথায় যে তাদের ঠিকানা? কত দূরে? আকাশের এত পথ পাড়ি দিয়ে কেমন করে তারা চিনে নেয় তাদের ঠিকানা? মানুষের মতো তারাও কি কখনো কখনো ঠিকানা ভুল করে? ভুলে যায় চেনা ঠিকানা? অথবা ইচ্ছে করে চেনা ঠিকানা ছেড়ে অচেনা,অজানা ঠিকানায় চলে যেতে চায়? তারাও কি অনেক পুরনো সম্পর্ক ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায়? নিরুদ্দেশে পাড়ি জমায়
প্রভু তুমি ছেড়ে যেও না
আমাদের সাথে তুমি থাকো
আমাদের লজ্জা, গ্লানি, অক্ষমতা
হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রুদ্ধতা তোমার
ঐশী আলোয় ঢাকো।
প্রভু তুমি ছেড়ে যেও না
তোমার দয়া, করুণা কেড়ে নিও না
বর্বরতার তিমিরে ডুবিয়ে দিও না
তোমার সত্যের ছায়াতলে রাখো।
অন্ধকারের গহীনে আলো দাও
সত্যের শিখা জ্বেলে দাও প্রাণে প্রাণে
মানুষ আমি,আমাকে মানুষের বুঝ দাও
জিঘাংসার রোষানল স্তিমিত করে দাও।
প্রভু তুমি ছেড়ে যেও না
আমাদের সাথে তুমি থাকো
বিভেদের সকল কিছু নাশো
আমাদের অন্তরে আলো হয়ে আসো।
আকাশের তলে কত প্রেম, কত সম্পর্কের মৃত্যু হয়
কত নীড় ভাঙ্গে কত নীড় হয় গড়া
কত শুষ্ক নদী হয় খরস্রোতা
কত খড়স্রোতা নদী যৌবন ফুরিয়ে হয় মরা।
আকাশের তলে বিবর্ণ হয় সুবর্ণ সময়
তবু পৃথিবী বয়ে যায়
বয়ে চলে পৃথিবীর কালস্রোত
কত প্রাণ ভেসে যায় মৃত্যুর ভেলায়!
আকাশের তলে আমাদের সব কথা নয় কথা
সব ব্যথা নয় ব্যথা
হাজার ব্যথার তান্ডবে, জীবন ক্ষয়ে যায়
নশ্বর জীবনে পরতে পরতে
শুধু ব্যথার নকশীকাঁথা জড়িয়ে রয়।
কিসে কেড়ে নেয় নক্ষত্রের প্রাণ?
কিসে থেমে যায় জীবনের জয়গান?
কিসে শুষ্ক হয় তরুলতা?
কিসে আসে জীর্ণ জড়তা?
শুধু থেকে যায় হাজার প্রশ্নকথা।
এই আকাশের তলে কে আমি?
কি করে আমি অনন্তগামী?
নক্ষত্রের মৃত্যুতে ব্যথিত এই আমি
তবু নিজের মৃত্যুর কাছে যাই থামি!
কতকাল কেটে গেল হায় আমার
এই পতঙ্গ জঙ্গলে হেঁটে হেঁটে
কতবার আমি থেমেছি যে
মানুষকে খুঁজে পেতে মানুষের বেশে।
পতঙ্গ বেশে মানুষের এই উড়াউড়ি
রক্তের হোলি খেলার উৎসবে,
শত্রুর সাথে বন্ধু বেশে গলা ধরাধরি
মানুষ পতঙ্গের বেসুমার ছড়াছড়ি।
