মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন হতেই মানুষকে প্রকৃতির বৈরিতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাঁচার জন্য সমাজবদ্ধ বা জোটবদ্ধ হতে হয়েছে। সমাজবদ্ধ বা জোটবদ্ধ হয়ে বাঁচার জন্য মানুষকে কিছু না কিছু নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি, বিধি-বিধান,সামাজিক প্রথা ও অনুশাসন মানতে হয়েছে। সে বিধি-বিধান , রীতি-নীতি ও প্রথা যেমনই হোক না কেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ভৌগলিক অবস্থান, মানুষের অভ্যাস ও স্বভাব এর উপর ভিত্তি করে এ সব রীতি-নীতি ও নিয়ম-কানুনের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যতা সব সময় সব সমাজ ব্যবস্থাতেই ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ সবের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কল্যাণ ভাবনা, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করা। এ কল্যাণ ভাবনা গোত্র, সমাজ ও দেশ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। সভ্যতার ক্রমোন্নতির সাথে সাথে নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের উপর বিভিন্ন দেশ ও সমাজ গুরুত্ব দিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা নিয়ম-কানুনকে লিখিতরুপে প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছে। খ্রিষ্টের জন্মের হাজার হাজার বছর পূর্ব হতেই মানুষ তা করেছে। ব্যবিলনের রাজা হাম্বুরাবীর ‘কোড অব ল’ এমনি লিখিত কিছু আইন বা বিধি যা সেই সময়ে তো বটেই আজও বহুল আলোচিত বিষয়। আজও এ ‘কোড অব ল’ নিয়ে দেশে দেশে গবেষণা হয়। দেশ বিদেশের বহু বিশ^বিদ্যালয়ে এ ‘কোড অব ল’ পড়ানো হয়। বিশেষজ্ঞগণ ‘কোড অব ল’ নিয়ে রীতিমত গবেষণা করেন। বিশ^বিদ্যালয়ের আইন ও ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা বিষয়ক বইতে এ ‘কোড অব ল’ এর কোন কোন অংশ পাঠ্য বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়। পাঠকের ধারণা লাভের জন্য একটি কোড এখানে উল্লেখ করা হলোঃ
কোড – ২২
যদি একজন ব্যক্তি হত্যা-রাহাজানি চালায় এবং যদি সে ধৃত হয়, তবে ঐ ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে।
চলবে
