আমার একটা জীবন ছিল

আমার একটা জীবন ছিল
-মোঃ বদিউজ্জামান
———————————-
আমার একটা জীবন ছিল
সেই সে শিশু কিশোরকালে
নতুন চোখে দেখতে পেতাম
দোয়েল পাখি, লক্ষী পেঁচা
সেই সে উঁচু গাছের ডালে।
বানের জলে টেংরাপুটির
উজান বাওয়া দেখে
খালই জালে ঘেরা দিতাম
নাওয়া খাওয়া রেখে।
আমার একটা জীবন ছিল
সাতসকালে উঠে
শিশির ভেজা ঘাসের ছোঁয়া
নিতাম পায়ে মেখে।
চঁড়ুই পাখি, বাবুই পাখির
দেখে উড়াউড়ি
আকাশ পানে উড়িয়ে দিতাম
কত রঙিন ঘুরি!
মেস্তাপাটের পাতা তুলে
হাতে ডলেডলে
টকের স্বাদে মুখে দিতাম
হাসিখেলার ছলে।
ফড়িং ধরার খেলায় মেতে
ছুটে ফড়িং পানে
পেড়িয়ে যেতাম মাঠ প্রান্তর
ছুটতাম দূরের গ্রামে।
আমার একটা জীবন ছিল
আহা কত সুখের
ভেবে কত কান্না আসে
ব্যথা বাড়ায় বুকের।
সেই জীবনে সুখ যে ছিল
ছিল গভীর ভালোবাসা
এখন জীবন পানসে কেমন
কেমন উদাস, কেমন ভাসাভাসা!

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতা
-মোঃ বদিউজ্জামন
———————
বাইরে বাতাস অনেক, ঝড়ো বাতাস
বৃষ্টি ঝড়ছে ,গলিত সাদা রুপোর মতো বৃষ্টি
একটি নেঁড়ি কুকুর ডেকে গেল
অনেকক্ষণ ডাকল
সাড়া নেই সাথী কুকুরের
মরার মতো পড়ে আছে তো আছেই।
দুটি কাক ভিজে ঝপঝপে
ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে ভাব বিনিময় করছে
মাঝে মাঝে পাখা ঝাপটে
দুজন দুজনার মধ্যে উষ্ণতা খুঁজছে।
গাছগুলো বাতাসে নুইয়ে পড়ছে
যেন মাটির কাছে কৃতজ্ঞতায় নত হচ্ছে
আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে
যেভাবে কখনো কখনো
পরাজিত মানুষও উঠে দাঁড়ায়।
আমি ভাবছি তোমার কথা
সেই কতকাল আগের কথা
হাতে হাত রাখার কথা
চোখে চোখ রাখার কথা
ভাবছি বৃষ্টি ভেজা সকাল,দুপুর
আর গভীর রাতের কথা
আমাদের কত যে কথা ছিল!
তারপর ধীরে ধীরে কথা ফুরালো
স্বপ্নগুলো ম্লান হলো
এক সময় সাদা মেঘের মতো উড়ে গেল
কোথায় যে তারা গেল আর ফিরল না!
ঝড়ের শেষে গাছেরাও উঠে দাঁড়ায়
আপন প্রেরণায়
আমাদের প্রেম এতটাই নিঃশেষ
আর কখনো দাঁড়ানো হলো না
পাশাপাশি, গায়ে গা স্পর্শ করে।
এখন ধূসর সময়
বৃষ্টির উষ্ণ ফোঁটার মতো
শুধু মিলিয়ে যাওয়ার সময়
বড় বেশী নিঃসঙ্গতা
শুধু ধূসর স্মৃতিকাতরতা।